LATEST NEWS

হার্ট অ্যাটাক-স্ট্রোকে ২৫ ভাগ মৃত্যু প্রথম ঘণ্টায়

হার্ট অ্যাটাক (এমআই) বা ব্রেইন অ্যাটাক (স্ট্রোক) হলে ২৫ ভাগ রোগী এক ঘণ্টার মধ্যে মারা যায় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। তাঁরা বলছ...

Thursday, April 14, 2016

বৈশাখ উদযাপনে ধর্মীয় বাধা-নিষেধ নেই: প্রধানমন্ত্রী

দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকা একটি বিরাট বিষয়। এছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্রীয় বাসভবন গণভবনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের মানুষের উৎসবের জন্য শুধু উপলক্ষ্য লাগে। তারা বছর জুড়েই ঈদ, পূজা এবং পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে। পহেলা বৈশাখ উদযাপনে কোন ধর্মীয় বাধা নিষেধ নেই। ‘আমি বুঝি না কেন কেউ কেউ পহেলা বৈশাখ উদযাপনে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করে এবং তারা আদৌও কোন ধর্মের অনুসারি কি না আমার সন্দেহ রয়েছে।
দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, এডভোকেট সাহারা খাতুন এবং সতীশ চন্দ্র রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা মুহম্মদ ফারুক খান, আব্দুস সোবহান গোলাপ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বাংলা নববর্ষ ১৪২৩ এর শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ধর্মের প্রতি ‘আঘাতকারীদের’ সতর্ক করে দিয়ে সহনশীলতার সঙ্গে সংস্কৃতি ও ধর্ম পালনের আহ্বান জানিয়েছেন আমাদের খুব দুর্ভাগ্য যে, আমাদের একেক দল একেক রকম করে কথা বলতে শুর করে। আমাদের এই দেশে যুগ যুগ ধরে আমাদের যে সংস্কৃতি, আমাদের যে রীতি-নীতি, সেগুলো আমরা পালন করি। যার যার ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী ধর্ম পালন করে। একটা সহনশীলতা নিয়ে আমরা বসবাস করব, যেন আমাদের দেশে শান্তি বজায় থাকে। সবচেয়ে বড় কথা শান্তি।  ইসলাম ধর্মে সহনশীলতার  শিক্ষার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ধর্ম আমরা সবাই পালন করি। আর ইসলাম ধর্মেই নির্দেশনা আছে যে, যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। এখানে কারও ধর্মের ওপর আঘাত দেয়ার কথাতো বলা হয়নি। নবী করিম (স.) তো বলেই গেছেন যে, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না। আর এই যে বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে নানা ধরনের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা, থ্রেট করা, বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা বা মানুষের জীবনের ওপর হুমকি দেয়া- এটা ধর্মের কোথায় বলা আছে? যারা এ ধরনের হুমকি দেয় তারাই তো আমাদের ধর্মকে অবমাননা করে, ধর্মের বদনাম করে। বিকাল ৫ টার মধ্যে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান শেষ করার বিষয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরেকটা গ্রুপ আছে। আমরা মানুষের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য সব সময় সচেতন। একটা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করার জন্য কী কী করণীয় আমরা তার কতকগুলো অনুশাসন দেই। এ নির্দেশনা দেয়াতে অনেকে দেখলাম ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। যিনি ক্ষোভ প্রকাশ করলেন, তাকে আমি বলতে চাই, যদি কোন অঘটন ঘটে, তার দায় কী তিনি নেবেন? তাকেই নিতে হবে। এটা মাথায় রাখতে হবে।
ধর্মীয় প্রসঙ্গ নিয়ে লেখালেখির ক্ষেত্রে সতর্কতার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আরেকটি বিষয় বলব, কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে লেখা কখনও গ্রহণযোগ্য না। এখন একটা ফ্যাশন দাঁড়িয়ে গেছে যে, ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু লিখলেই তা হয়ে গেল মুক্তচিন্তা। আমি এটাকে মুক্তচিন্তা দেখি না। আমি এটাকে দেখি নোংরামি। এতো নোংরা নোংরা লেখা কেন লিখবে?
আমি আমার ধর্ম মানি, আমি যাকে নবী মানি তার সম্পর্কে নোংরা কথা যদি কেউ লেখে, সেটা কখনও আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না। ঠিক তেমনি অন্য ধর্মের যারা, তার সম্পর্কেও কেউ কিছু যদি লেখে, তাহলে এটা কখনও গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি বলেন, মানুষ খুন করার মধ্যে সমস্যার সমাধান নাই। একজন লিখল, আর একজন খুন করে প্রতিশোধ নেবে এটাও তো ইসলাম ধর্ম বলেনি।

Post a Comment

 
Copyright © 2014 Test-F. Designed by Nejam Kutubi